কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১০:১১ AM
কন্টেন্ট: পাতা
ইনোভেশন ল্যাব (আইল্যাব)
২০১৭ সালে এটুআই-এর গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) ইউনিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ইনোভেশন ল্যাব (আইল্যাব) পরিচালিত হয় অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রামের আওতায়, যা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের একটি উদ্যোগ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও ইউএনডিপি কর্তৃক সহায়তাপ্রাপ্ত। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একটি গতিশীল ইউনিট হিসেবে আইল্যাব দেশব্যাপী একটি সমৃদ্ধ উদ্ভাবন সংস্কৃতি বিকাশে নিবেদিত।
বিগত এক দশকে আইল্যাব তৃণমূল পর্যায়ের সমাধান থেকে শুরু করে সমকালীন উন্নত প্রযুক্তি পর্যন্ত বিস্তৃত পরিসরে উদ্ভাবন লালনের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। এই পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে উদ্ভাবকদের কারিগরি দিকনির্দেশনা, দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ এবং টেকসইতাভিত্তিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে ধারণাকে কার্যকর সমাধানে রূপান্তরিত করতে ক্ষমতায়িত করেছে।
এই ধারাবাহিকতায় আইল্যাব বর্তমানে একটি জাতীয় উদ্ভাবন উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে, যেখানে নাগরিক, প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতকে সম্পৃক্ত করে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় চ্যালেঞ্জসমূহের সম্মিলিত সমাধানের প্রয়াস নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে উদ্ভাবন সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং তরুণদের সৃজনশীলতাকে ভবিষ্যতের টেকসই সমাধানে রূপান্তরের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সুযোগ প্রদান করছে।
উদ্ভাবনকে জাতীয় জিডিপি প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে আইল্যাব সৃজনশীলতা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও সহযোগিতার রূপান্তরকারী শক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে। এর ফলে কেবল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতাই শক্তিশালী হচ্ছে না, বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের পথও প্রশস্ত হচ্ছে।
ভিশন একটি জাতীয় উদ্ভাবন কেন্দ্র হিসেবে আইল্যাব এমন একটি উদ্ভাবন সংস্কৃতি গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ, যা সরাসরি জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। | মিশন গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স (জিআইআই)-এ বাংলাদেশকে এশিয়ার শীর্ষ দেশসমূহের কাতারে নিয়ে যাওয়া। |
• তৃণমূল থেকে সমকালীন পর্যায় পর্যন্ত উদ্ভাবকদের সম্পৃক্তকরণ
• সমন্বিত সহায়তা ব্যবস্থা
• দেশব্যাপী শিল্পখাত-একাডেমিয়া-সরকার সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা
• বৈশ্বিক মেন্টর নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ
![]()

এই লক্ষ্য অর্জনে আইল্যাব চারটি ক্ষেত্রে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে-
জাতীয় উদ্ভাবন নীতিমালা | সকল খাতের উদ্ভাবন উদ্যোগকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে। |
জাতীয় উদ্ভাবন রিপোজিটরি | কেন্দ্রীভূত উদ্ভাবন তথ্য, যা পুনরাবৃত্তি হ্রাস করে এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে দিকনির্দেশনা দেয়। |
ইনোভেশন হাব (আইহাব) | আদর্শ কাঠামোর আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবন ও সহ-সৃজনের চর্চা গড়ে তোলা। |
ইনোভেশন ক্রসরোড | একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ধারণা, উদ্ভাবক, শিল্পখাত ও সরকার একত্রিত হয়ে উদ্ভাবনকে সম্প্রসারণযোগ্য প্রভাবে রূপান্তরিত করে। |
সনাক্তকরণ | দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে সম্ভাবনাময় উদ্ভাবক ও ধারণা খুঁজে বের করা। |
সহায়তা | কারিগরি দিকনির্দেশনা, মেন্টরিং, সক্ষমতা উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রদান। |
সংযোগ | শিল্পখাত, বাজারের অংশীজন ও বিনিয়োগকারীর সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা। |
যাচাই | প্রোটোটাইপ পরীক্ষা এবং কার্যকারিতার জন্য সমাধান পরিমার্জন। |
স্কেল | প্রমাণিত সমাধানের বৃহত্তর পরিসরে সম্প্রসারণ। |
প্রভাব | জাতীয় পর্যায়ে টেকসই অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব সৃষ্টি। |

ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগসমূহ
উদ্যোগ ১ · ইনোভেশন হাব
ইনোভেশন হাব (আইহাব) হলো বিশ্ববিদ্যালয় ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি উদ্ভাবনসংক্রান্ত সকল কার্যক্রমকে একটি অভিন্ন নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসে এবং তরুণদের সৃজনশীল সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে তাদের উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।
আইহাব হলো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত একটি বিশেষায়িত ইকোসিস্টেম, যার উদ্দেশ্য উদ্যোক্তা উন্নয়ন, সৃজনশীলতা, আন্তঃবিষয়ক গবেষণা ও উন্নয়ন এবং জ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগকে উৎসাহিত করা। এটি সরকার, শিল্পখাত, একাডেমিয়া ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের একটি ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে এবং স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সমস্যা সমাধানে সৃজনশীল উত্তর খুঁজে বের করতে সহায়তা করে। আইহাবের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উদ্ভাবনী পদ্ধতির মাধ্যমে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষম করে তোলা এবং জাতীয় ও শিল্পখাতের চ্যালেঞ্জ কার্যকরভাবে মোকাবিলায় স্থানীয় সমাধান উদ্ভাবনে উৎসাহিত করা।

উদ্যোগ ২ · জাতীয় উদ্ভাবন রিপোজিটরি

বাংলাদেশের রয়েছে ঐতিহ্যবাহী উদ্ভাবন চর্চার এক সমৃদ্ধ ইতিহাস, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমকালীন উদ্ভাবনের প্রয়োগে আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। নিজস্ব উদ্ভাবনের মাধ্যমে নিজেদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা এখন অপরিহার্য। বিগত এক দশকে আমরা উদ্ভাবনী মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি, যা এখন একটি আদর্শ উদ্ভাবন সংস্কৃতিতে রূপ দেওয়া প্রয়োজন।
এটুআই আইল্যাব স্থানীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে থাকে। আমরা বিশ্বাস করি, দেশের সমকালীন ও ঐতিহ্যবাহী উভয় ধরনের উদ্ভাবনকে একটি অভিন্ন রিপোজিটরিতে সন্নিবেশিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সৃজনশীল সমাধানের এই সমৃদ্ধ ভাণ্ডার একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে একত্রিত হয়।
উদ্যোগ ৩ · জাতীয় উদ্ভাবন নীতিমালা
বাংলাদেশের জন্য একটি জাতীয় উদ্ভাবন নীতিমালা প্রণয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি গুরুত্বপূর্ণ চাহিদাসমূহ পূরণের পাশাপাশি উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার একটি সুসংগঠিত পথনির্দেশ প্রদান করে। এটুআই আইল্যাবের উদ্ভাবন উইং এই নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে:
• উদ্ভাবনের সংজ্ঞা নির্ধারণ, যাতে এর পরিধি ও প্রভাব সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সমন্বিত ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়।
• আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে।
• সুসংগঠিত উদ্ভাবন সহায়তা নিশ্চিতকরণ, যাতে সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও উদ্ভাবকদের জন্য একটি শক্তিশালী কাঠামো নিশ্চিত হয়।
• সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা উৎসাহিতকরণ, সরকার, একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের সম্মিলিত সক্ষমতা কাজে লাগানোর মাধ্যমে।
• বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অগ্রসর চর্চা প্রবর্তনের মাধ্যমে।
• শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা প্রসার, যাতে উদ্ভাবনী সমাধানের গবেষণা, উন্নয়ন ও বাণিজ্যিকীকরণ ত্বরান্বিত হয়।

উদ্যোগ ৪ · ইনোভেশন ক্রসরোড
ইনোভেশন ক্রসরোড একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম, যা বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় উদ্ভাবনসমূহকে সেই সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত করে, যারা এসব উদ্ভাবনকে সম্প্রসারিত করতে সহায়তা করতে পারে — সরকারি সংস্থা, শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দ, বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সহযোগী এবং বৃহত্তর উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম।
সরকারি সেবা প্রদান ও ডিজিটাল রূপান্তর থেকে শুরু করে জীবিকা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশে উদ্ভাবনের ক্রমবর্ধমান জোয়ার লক্ষ করা যাচ্ছে। তথাপি অংশীদারিত্ব, বিনিয়োগ, বাজার সংযোগ ও গ্রহণযোগ্যতার সীমিত সুযোগের কারণে বহু কার্যকর ধারণা ও প্রোটোটাইপ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়ে যায় এবং পাইলট পর্যায় অতিক্রম করতে পারে না। এই ব্যবধান দূর করতেই ইনোভেশন ক্রসরোডের সূচনা।
এই উদ্যোগ উদ্ভাবক, নীতিনির্ধারক, শিল্পখাতের অংশীজন, ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট, উন্নয়ন সংস্থা, দূতাবাস ও ইকোসিস্টেম নেতৃবৃন্দকে একটি সমন্বিত পরিসরে একত্রিত করে, যেখানে ধারণা উপস্থাপন করা যায়, অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা যায় এবং সমাধানসমূহ সম্প্রসারণযোগ্য প্রভাবে রূপ নিতে পারে।

ইনোভেশন ক্রসরোড দুটি গতিশীল কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যা উদ্ভাবকদের জন্য তাৎক্ষণিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা উভয়ই নিশ্চিত করে।
একটি ফ্ল্যাগশিপ বার্ষিক আয়োজন, যেখানে নির্বাচিত উদ্ভাবনসমূহ গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সামনে উপস্থাপন করা হয়:
• উদ্ভাবন পিচিং
• ম্যাচমেকিং সেশন
• নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ
• শিল্পখাত ও সরকারের সম্পৃক্ততা
বার্ষিক ফেস্টিভ্যালের বাইরেও ইনোভেশন ক্রসরোড একটি নিবেদিত সারাবছরব্যাপী প্রদর্শনী সুবিধা প্রদান করে, যেখানে নির্বাচিত উদ্ভাবনসমূহ ধারাবাহিকভাবে:
• নিজেদের সমাধান প্রদর্শন করতে পারে
• সম্ভাব্য অংশীদারদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে
• বাজারে পরিচিতি গড়ে তুলতে পারে
• প্রোটোটাইপ পরিমার্জন করতে পারে
• সম্প্রসারণের সুযোগ অন্বেষণ করতে পারে
